কোরিয়ান ড্রামার ইতিহাস: সাধারণ শুরু থেকে বৈশ্বিক খ্যাতি পর্যন্ত
কোরিয়ান ড্রামা, যা সাধারণত কেড্রামা নামে পরিচিত, এখন বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক একটি বিস্ময়কর অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এর চমৎকার গল্প,
স্মরণীয় চরিত্র এবং উচ্চমানের প্রযোজনার জন্য এটি বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু কেড্রামা আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা অর্জনের আগে, এর ইতিহাস শুরু হয়েছিল অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, যা কোরিয়ান সমাজ এবং মিডিয়ার বিকাশের সাথে গড়ে উঠেছে।
প্রথম কোরিয়ান ড্রামা:'
কোরিয়ান টেলিভিশন ড্রামার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৫৬ সালে, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম টেলিভিশন ড্রামা "দ্য গেটস অব হেভেন" (천국의 문) সম্প্রচারিত হয়। এই ড্রামাটি সম্প্রচারিত হয় HLKZ-TV-তে, যা ছিল কোরিয়ার প্রথম টিভি স্টেশন। দ্য গেটস অব হেভেন ছিল একটি লাইভ-অ্যাকশন, সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ড্রামা, যা কোরিয়ান টেলিভিশন প্রযোজনার ভবিষ্যতের জন্য পথ তৈরি করে। এটি পরিচালনা করেছিলেন কিম জে-হিউং, যিনি কোরিয়ান টেলিভিশন প্রযোজনার অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন। যদিও এটির এপিসোড সংখ্যা কম ছিল এবং প্রযোজনার মান সাধারণ ছিল, এটি ভবিষ্যতের কোরিয়ান ড্রামাগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
ধাপে ধাপে পরিবর্তন
১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে, কেড্রামা ইন্ডাস্ট্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বিকাশিত হয়, যখন KBS (কোরিয়ান ব্রডকাস্টিং সিস্টেম) এবং MBC (মুনহা ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন)-এর মতো রাষ্ট্র-মালিকানাধীন সম্প্রচার কোম্পানিগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়। ড্রামাগুলি ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হতে শুরু করে, যেমন ঐতিহাসিক মহাকাব্য (sageuk) এবং সমসাময়িক পারিবারিক ও সম্পর্কের গল্প।
১৯৯০-এর দশকে কেড্রামা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়, যখন "হোয়াট ইজ লাভ?" (사랑이 뭐길래) এবং "স্যান্ডগ্লাস" (모래시계) এর মতো ড্রামাগুলি অভূতপূর্বভাবে দেশীয় দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। স্যান্ডগ্লাস বিশেষত সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে নির্মিত হওয়ায় কোরিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি সাংস্কৃতিক বিস্ময় হয়ে ওঠে, এবং এর ফাইনাল এপিসোড ৬৪% এরও বেশি দর্শক টেনে নিয়েছিল।
হ্যালিউ ঢেউ এবং আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা
২০০০-এর দশকের শুরুতে হ্যালিউ ঢেউ (কোরিয়ান ঢেউ) জন্ম নেয়, যা কোরিয়ান বিনোদন—বিশেষ করে ড্রামা—এশিয়া এবং পরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। "উইন্টার সোনাটা" (২০০২), "দে জাং গুম" (২০০৩), এবং "ফুল হাউস" (২০০৪) এর মতো ড্রামাগুলি এই বৈশ্বিক তরঙ্গের একটি প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে, যার ফলে কোরিয়ান ড্রামাগুলি জাপান, চীন এবং অন্যান্য দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে।
বিশেষ করে "উইন্টার সোনাটা" জাপানে একটি বড় হিট হয়ে ওঠে এবং কোরিয়ান ড্রামাগুলির আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও মজবুত করে। "বেয়োং-জুন' এবং 'চোই জি-উর" অভিনীত এই সিরিজটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা কোরিয়ান ড্রামাগুলির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ খুলে দেয়।
বর্তমানে কোরিয়ান ড্রামার সংখ্যা
২০২৪ সাল হিসেবে এখনো অবদি, কোরিয়াতে হাজার হাজার কেড্রামা তৈরি হয়েছে, যা রোমান্স, অ্যাকশন, থ্রিলার থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক মহাকাব্যের মতো বিভিন্ন ধারার অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৬০ বছরের বেশি টেলিভিশন ইতিহাস জুড়ে তৈরি হওয়া ড্রামার সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন, তবে নেটফ্লিক্স, ভিকি এবং ডিজনি+ এর মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির বিস্ফোরণের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ড্রামার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতি বছরে কত কোরিয়ান ড্রামা মুক্তি পায়?
গত দশকে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতি বছর গড়ে ১০০ থেকে ২০০ কেড্রামা তৈরি করেছে। ২০২২ সালে, প্রায় ১৬০টির বেশি ড্রামা তৈরি এবং সম্প্রচারিত হয়, যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় দর্শকদের ক্রমাগত চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির বাড়তি চাহিদার কারণে কাহিনির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্লোবাল দর্শকরা এখন বাস্তব সময়ে এই ড্রামাগুলি উপভোগ করতে পারছেন।
শেষ কথা
"দ্য গেটস অব হেভেন" থেকে কোরিয়ান ড্রামা একটি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। প্রাথমিক নির্মাতা কিম জে-হিউং থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযোজনা, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করেছে, কেড্রামা একটি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী বিনোদন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর শত শত নতুন শো মুক্তির সাথে, কোরিয়ান ড্রামার ভবিষ্যৎ আগের চেয়ে উজ্জ্বল এবং বিশ্বব্যাপী বিনোদন দুনিয়ায় আরও গভীর প্রভাব ফেলবে।
